Showing posts with label History. Show all posts
Showing posts with label History. Show all posts

Friday, February 18, 2022

Thursday, October 29, 2020

তারা পূজা কি? [Tara Puja Ki?] (Importance of Tara Puja)


তারা পূজা কি?


কোজাগরী চতুর্দশীর দিন মানে দূর্গা পূজার দশমীর পরের চতুর্দশী বা কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার আগের দিনটি তারাপুজার দিন হিসাবে পালন করা হয়| এই দিন মাকে মূল মন্দির থেকে বের করে রাখা হয় বিরামখানায়| সকালে মায়ের স্ন্যানের পর মাকে নিয়ে আসা হয় এই বিরামখানায়| তারপর সারাদিন ধরে চলে পুজো| মাকে সাজানো হয় রাজবেশে| এই দিন দুপুরে মাকে ভোগ দেয়া হয় না| ভক্তরা যা নিয়ে যায় মা আজ তাই খান সারাদিন ধরে| দুপুরে বিশ্রাম ও হয় না| সারাদিনের শেষে সন্ধ্যের আগে মা চলে যান মূল মন্দিরে তারপর হয় মায়ের সন্ধ্যা আরতি| এবং তারপর মায়ের শীতলী ভোগ|
তারাপুজার প্রচলন তারাপীঠে অনেকদিন আগে থেকে| কথিত আছে আজকের দিনে মহামুনি বশিষ্টদেব তারা মাকে প্রথমবার দর্শন দিয়েছিলে| সেই হিসাবে তারাপীঠে মায়ের আগমন তিথি হিসাবেও ধরা হয়| তারপর জয়দত্ত বণিক তারা মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের শিলামূর্তি আবিষ্কার করেন আজকের দিনে| উনি প্রথম যিনি মায়ের মন্দির বানিয়ে শিলামূর্তি পুজো করেন| সেই শিলামূর্তি আজও মন্দিরে পুজো হয়| এছাড়া মায়ের যে মন্দির জয়দত্ত বণিক প্রথম বানিয়েছিলেন, সেই মন্দির অনেক দিন আগেই কালের গহ্বরে হারিয়ে হয়| তবে পর আশ্চর্যজনক ভাবে সেটা উদ্ধারও হয় এবং বর্তমানে সেখানে সাধক বামদেবের সমাধি| সব দিক দিয়েই তারাপুজার গভীরতা অনেক|

জয় তারা মায়ের জয়| জয় শ্রী দূর্গা জয় তারা|

Wednesday, October 21, 2020

কি আনন্দের কথা উমে গো মা [Backstory of Maa Sarada- Briefly]

 

কি আনন্দের কথা উমে গো মা


এক সময় (সম্ভবত ১৮৯১ সালে) জয়রামবাটী গ্রামে একজন বৈরাগী (হরিদাস) এসে বেহালা বাজিয়ে গাইত দাশরথি রায়ের লেখা একটি আগমনী গান ---

"কি আনন্দের কথা উমে (গো মা)

(ওমা) লোকমুখে শুনি সত্য বল শিবানী,

অন্নপূর্ণা নাম তোর কি কাশীধামে?

অপর্ণে তোমায় যখন অর্পণ করি|

ভোলানাথ ছিলেন মুষ্টির ভিখারী|

এখন নাকি তার দ্বারে আছে দ্বারী,

দেখা পায় না তাঁর ইন্দ্র-চন্দ্র-যমে||

ক্ষ্যাপা ক্ষ্যাপা আবার বলত দিগম্বরে,

গঞ্জনা সয়েছি কত ঘরে পরে|

এখন নাকি তিনি রাজা কাশীপুরে,

বিশ্বেশ্বরী তুই বিশ্বেশ্বরের বামে||


এই গান শুনে চোখের জলে ভাসতেন মা শ্যামাসুন্দরী দেবী- ও গান যেন তাঁর মেয়ে সারদামণিরও জীবনসঙ্গীত| চোখে তাঁর দেখা দিত আনন্দাশ্রু, গানটি বারবার শুনেও যেন তৃপ্তি হতো না| আবেগ-জড়িত কণ্ঠে উপস্থিত সবাইকে বলতেন- |হ্যাঁ গো, তখন সকলেই জামাইকে ক্ষেপা বলত, সারদার অদৃষ্টিকে ধিক্কার দিত| আমায় কত কথা শোনাত, মনের দুঃখে মোর যেতুম| আর আজ দেখ, কত বড়ো ঘরের ছেলেমেয়েরা দেবীজ্ঞানে সারদার পা পূজা করছে|"


সত্যিই তো, এ মেয়ের জন্য কম গঞ্জনা সৈতে হয়েছে তাঁকে? জয়রামবাটী গ্রামের সর্বত্র জানাজানি হয়ে গিয়েছিল সে কথা- দক্ষিণেশ্বরে মা কালীর মন্দিরে পূজারী হয়ে তাঁর জামাই নাকি পাগল হয়ে গিয়েছে- রাতদিন কেবলই মা! মা! করে কাঁদে| আর সেই সব কথা শুনে গাঁয়ের বৌ-ঝিরা তাই কানাকানি করত- "ওমা! শ্যামার মেয়ের ক্ষেপা জামাইয়ের সাথে বে হয়েছে|" আর তাই শুনে মেয়ের দুঃখে মায়ের বুক ভেঙে যেত| ভাবতেন, সবই অদৃষ্টের ফের! কিন্তু এই বুক ভাঙা দুঃখের মাঝেও শ্যামাসুন্দরী দেবী সময় সময় একটু সান্ত্বনা পেতেন যখন ওই গাঁয়েরই শুদ্ধস্বভাবা ভানুপিসি এসে খুব জোরের সঙ্গে তাঁকে বলতেন- :বউ ঠাকরুন, তোমার জামাই শিব, সাক্ষাৎ কৃষ্ণ- এখন যা বিশ্বাস করতে পারছ না, পরে পারবে বলে রাখছি|"


সারদামণিও জানতেন সে কথা| গিরিরাজ কন্যা উমার মতোই জানতেন তাঁর আত্মভোলা পতির স্বরূপ| জানতেন, গাঁয়ে যা রটেছে তা সত্যি নয়| তাঁর দেবতুল্য পতি পাগল হতেই পারেন না| মন তাঁর পড়ে থাকে দক্ষিণেশ্বরে- সেখানে গিয়ে পতিদেবতার সেবাযত্নের জন্য আকুল আগ্রহে দিন কাটাতে থাকেন| সে সুযোগও তাঁর এসে যায়| সেবার (চৈত্র মাস, ১২৭৮ সাল) কি এক পর্ব উপলক্ষে গ্রাম থেকে অনেক লোক কলকাতায় এসেছিলেন গঙ্গাস্নান করতে| সেই সময় সারদামণিও ভাবতেন- "সবাই এমন বলছে, আমি গিয়ে একবার দেখে আসি সেন আছেন|" বাবা তাঁর সেই মনের কথা বুঝতে পেরে তাঁকে নিয়ে হাঁটাপথে দক্ষিণেশ্বরের উদ্দেশে রওনা হলেন|


অনেক কষ্টে সারদামণি দক্ষিণেশ্বরে এসে পৌঁছলে তাঁর আপনভোলা পতি তাঁকে সাদরে গ্রহণ করলেন| দেখেশুনে সারদামণি বুঝলেন, গাঁয়ে যা রটেছে তা মিথ্যা- সব মিথ্যা| তাঁর পতি পাগল কোথা- তিনি যে দক্ষিণেশ্বরে ভক্তের রাজা| তাঁকে নিয়ে সেখানে আনন্দের হাট- পতি তাঁর আশ্রিতবৎসল- যে তাঁর শরণাগত তাঁকেই আশ্রয় দিচ্ছেন- দেখাচ্ছেন ভক্তি-মুক্তির পথ|


তাই জয়রামবাটীতে সেই বৈরাগীর আগমনী গান শুনে শ্রীমা সারদামণির জীবনের সেই অধ্যায়ের কথাই তখন সকলের মনে পড়ে যেত| সেই গান শুনে অনেকেই কাঁদতেন, যেমন কাঁদতেন শ্যামাসুন্দরী দেবী, সেইসঙ্গে যোগীন-মা, গোপাল-মা-- সারদামণির দুই সহচরী| এমনকি মহাকবি গিরিশচন্দ্রও যখন কলকাতা থেকে আসতেন, এই গান শুনে  তিনি অশ্রু সংবরণ করতে পারতেন না| তিনি শ্রীমাকে মনে করতেন-- "মাস জগদম্বা, জগজ্জননী"| আর বিশ্ববরেণ্য সন্নাসি স্বামী বিবেকানন্দের কথা তো আগেই বলা হয়েছে, মা সারদামণি তাঁর কাছে ছিলেন  সাক্ষাৎ 'জ্যান্ত দুর্গা'| 


সংকলন: বেলুড় মঠে স্বামীজীর দুর্গাপূজা (স্বামী দেবেন্দ্রানন্দ) [উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা]

Wednesday, February 26, 2020

শ্রীশ্রীগয়াধাম নাম,উৎপত্তি ও মাহাত্ম [Details About Gaya]

বিষ্ণুপদ মন্দির


শ্রীশ্রীগয়াধাম নাম,উৎপত্তি ও মাহাত্ম

গয় নামক অসুরের দেহের উপর এই মহাতীর্থ স্থাপিত; এজন্য এই পূর্ণভূমির, নাম গয়াধাম| গয়ার পিতা ত্রিপুরাসুর, মাতা শুক নামক দৈত্যর কন্যা প্রভাবতী| জগতের আদিম শ্বেতকল্পে তাঁর আবির্ভাব| কোলাহল পর্বতে দীর্ঘ সহস্র বৎসর ধরে কুম্ভক-সমাধিযোগে তাঁর কঠোর তপস্যা| সে দারুন তপস্যায় দেবতারা শঙ্কিত, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহাদেব বিচলিত| সকলকে নিয়ে গয়ার নিকট উপস্থিত হয়ে বিষ্ণু গয়কে বললেন- তোমার তপস্যায় প্রসন্ন হয়েছি, বড় প্রার্থনা কর| গয় প্রার্থনা করলেন, আমাকে দর্শন-স্পর্শন করে যাবতীয় প্রাণী যেন বৈকুন্ঠে গমনে সমর্থ হয়| বিষ্ণু বললেন- তথাস্তু|
তারপর বিষ্ণুর নির্দ্দেশে ব্রহ্মা যজ্ঞ সম্পাদনার্থে তদীয় দেহটি চাইলেন| কারণ তিনি বললেন- পৃথিবীর সমস্ত তীর্থ ভ্ৰমণ করে দেখলাম বিষ্ণুর বরে তোমার দেহই সর্ব্বাপেক্ষা পবিত্র| গয়াসুর সানন্দে স্বীয় দেহ দেন করলেন সমগ্র জগতের কল্যাণের জন্য| বললেন- আমি ধন্য হলাম; সকলের উপকারের জন্য আমার দেহে অবশ্য যজ্ঞ হবে| গয় দেহ প্রসারিত করে দিলেন| তাঁর মস্তকের উপর একখণ্ড শিলা স্থাপন পূর্ব্বক যজ্ঞ সম্পন্ন হল| অসুরের দেহ কম্পিত হতে থাকায় বিষ্ণু স্বীয় গদাঘাতে দেহটি নিশ্চল করে দিয়ে তদীয় মস্তকের উপর স্বীয় শ্রীপাদপদ্ম স্থাপন করে বর দিলেন- যে পর্যন্ত পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহনক্ষত্র থাকবে ততকাল এই শিলায় ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর থাকবেন| পঞ্চক্রোশ গয়াক্ষেত্র, এক ক্রোশ গয়াশির| গদাধরের পূজা দ্বারা পাপনাশ হোক| যাদের সপিন্ডক শ্রাদ্ধ হবে, তারা ব্রহ্মলোকে গমন করুক| সমস্ত দেবতা ও সকল তীর্থ এখানে অবস্থান করুক| দেবগণসহ বিষ্ণু সানন্দে প্রার্থিত বর প্রদান করলে অসুরের দেহ নিশ্চল হল|

(বায়ু পুরান অষ্টম অধ্যায় থেকে সংকলিত)

তথ্যসূত্র: শ্রীশ্রীগয়া-মাহাত্ম ও  গয়া-কৃত্য (স্বামী বেদানন্দ) [ভারত সেবাশ্রম সংঘ]